ব্যক্তি তার শারীরিক সুস্থতা অথবা মানসিক উন্নতি সাধনের জন্য ভ্রমণের উদ্দেশ্যে
সে দেশের সরকারের কাছ থেকে যে নথি ও সরকারি ভাবে পরিচয় পত্র নিয়ে থাকে । এবং এই
নথির মাধ্যমে সেই দেশের
নাগরিক অন্য দেশে যাওয়া ও ফিরে আসার অনুমতি ও নিরাপত্তা পায় , সেই নথিটি বা
অনুমতি পত্রটিকে পাসপোর্ট বলা হয়। যা ব্যক্তি আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সময়
ব্যবহার করে থাকে এবং যা ওই নাগরিকের জাতীয়তা ও পরিচয় নিশ্চিত করে।
তথ্য ও প্রযুক্তি যুগে এখন ঘরে বসে সকল সেবা পাওয়া সহজ হয়ে গেছে। এখন আর কোন
তথ্য বা সেবা নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইন ধরে কোন অফিসের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়
না। এই তথ্যপ্রযুক্তি যুগে যেকোনো ধরনের তথ্য অনলাইনে দেয়া এবং নেয়া যায়। যার
মধ্যে পাসপোর্ট একটি অন্যতম সেবা ।কোন ব্যক্তি ভ্রমণের উদ্দেশ্যে অথবা চিকিৎসার
জন্য যদি দেশের বাইরে যেতে চাই তাহলে সরকার কর্তৃক একটি নথি পত্র নিতে হয় এবং
সে নথিপত্র তার পরিচয় বহন করে ।দেশে আসার জন্য এবং দেশের বাইরে
যাওয়ার জন্য এই নথিপত্র বা পাসপোর্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।
যদি আমরা অনলাইনে পাসপোর্ট চেক করতে চাই তাহলে, আমাদের E-Passport Online
Registration portal নামক একটি ওয়েবসাইটে যেতে হবে । এটি একটি সরকারি ওয়েবসাইট
। এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর আপনাদের কিছু তথ্য দিতে হবে যেগুলো আপনাদের
পাসপোর্ট চেক করার ক্ষেত্রে খুবই প্রয়োজন যেমন- আবেদন করার সময় যে অ্যাপ্লিকেশন
আইডি অথবা রেজিস্ট্রেশন আইডি পেয়েছিলেন সেটি আপনাকে এখানে দিতে হবে।আপনার
সঠিক জন্ম তারিখ দিতে হবে।এরপর আপনার স্ক্রিনে একটি ক্যাপচা কোড আসবে সে কোডটি
আপনাকে সঠিকভাবে টাইপ করতে হবে।Check বাটনে ক্লিক করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলে
দেখতে পারবেন , আপনার পাসপোর্টে বর্তমান অবস্থা। এমন কয়েকটি ধাপ অনুসরণ
করলে আপনি অনলাইনে আপনার পাসপোর্টটি চেক করতে পারবেন ।
বাংলাদেশে কয় ধরনের পাসপোর্ট চালু রয়েছে
আন্তর্জাতিকভাবে দেশের বাইরে ভ্রমণ অথবা চিকিৎসা নেয়ার জন্য কোন নাগরিক যদি যেতে
চায় তাহলে তাকে পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হয়। দেশের বাইরে এই পাসপোর্ট একজন
ব্যক্তির পরিচয় ও নিরাপত্তা বহন করেন। যদি কোন ব্যক্তি কোন অপরাধের সাথে জড়িত
থাকে ,অথবা তার নামে কোন মামলা বা সে বিচারের আওতাধীন রয়েছে তাহলে , সরকার সে
ব্যক্তির পাসপোর্ট স্থগিত করতে পারে ।
কারণ সে এই পাসপোর্ট এর মাধ্যমে দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশ সরকার
২০২০ সালে ই -পাসপোর্ট সেবা চালু করেন। বর্তমান বিশ্বের দিকে তাকালে আমরা মোট চার
ধরনের পাসপোর্ট দেখতে পায় ।
কিন্তু বাংলাদেশের জন্য তিন ধরনের পাসপোর্ট চালু রয়েছে। যেমন -সবুজ পাসপোর্ট ,
নীল পাসপোর্ট ও লাল পাসপোর্ট। সবুজ পাসপোর্ট - বাংলাদেশে জন্মগত ও বৈবাহিক সূত্রে
সকল সাধারণ নাগরিকদের জন্য সবুজ পাসপোর্ট চালু রয়েছে। এই পাসপোর্ট এর মাধ্যমে
কোন নাগরিক যদি দেশের বাইরে চিকিৎসা অথবা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যেতে চায় তাহলে
,অবশ্যই এই পাসপোর্ট এর বিপরীতে তাকে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।নীল পাসপোর্ট
-নীল পাসপোর্ট কে মূলত অফিসিয়াল পাসপোর্ট হিসেবে অক্ষায়িত করা হয়।
সরকারিভাবে কোন কর্মচারী অথবা কর্মকর্তা যদি দেশের বাইরে সরকারের কাজের জন্য
ভ্রমণ করতে যায় তাহলে এই অফিসিয়াল পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হয়।
পাসপোর্ট করার জন্য পাসপোর্ট অফিসের সরকারি অনুমোদন অথবা গভমেন্ট অর্ডার
(জিও) প্রয়োজন হয়। এই নীল রংয়ের পাসপোর্ট ধারী ব্যক্তিরা মোট 2৬ টি দেশে বিনা
ভিসায় ভ্রমণ করতে পারে শুধুমাত্র সরকারের কাজের উদ্দেশ্যে।
লাল পাসপোর্ট-লাল পাসপোর্ট মূলত ডিপ্লোম্যাটিক ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট হয়ে থাকে।
এটি মূলত রাষ্ট্রপতি ,প্রধানমন্ত্রী ,মন্ত্রিসভার সদস্য ,সংসদ সভার
সদস্য , প্রধান বিচারপতি ,পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য
,বাংলাদেশের পাবলিক সার্ভিস এর কমিশনারের প্রধান ,মন্ত্রণালয়ের
সচিব এবং বিদেশে বাংলাদেশের মিশনে যে কর্মকর্তাগুলো রয়েছে তারা এই নীল লাল
পাসপোর্ট এর আওতাধীন রয়েছে।
ই -পাসপোর্ট বানানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
ই পাসপোর্ট বানানোর জন্য প্রথমে, অনলাইনে একটি ফরম পূরণ করতে হবে যে ফর্মে
সাধারণত আপনার সম্পূর্ণ তথ্য থাকবে। তার (নমুনা) যেমন - আপনার নাম, বর্তমান
বয়স , আপনি মহিলা না পুরুষ , আপনার বৈবাহিক অবস্থা , আপনার স্থায়ী ও অস্থায়ী
ঠিকানা, আপনার মোবাইল নাম্বার, আপনার ভোটার আইডি কার্ডের নাম্বার, আপনি পাসপোর্ট
কত মেয়াদি করতে চাচ্ছেন । এইসব তথ্যগুলো অনলাইনের মাধ্যমে প্রদান
করে আপনাকে ফরমের কপিটি সংগ্রহ করতে হবে।
অনলাইনে আবেদনকৃত ফরম (এক কপি), ১৮ বছরের নিচে হলে জাতীয় পরিচয় পত্র( মূল কপি
সাথে আনতে হবে) এবং ১৮ বছরের ওপরে হলে আপডেট বাংলা ও ইংরেজি জন্ম নিবন্ধন (মূলকপি
সাথে নিয়ে আসতে হবে), পিতা মাতা জাতীয় পরিচয় পত্র/অনলাইনে মৃত্যু সনদ (মূলকপি
সাথে আনতে হবে), প্রত্যয়ন পত্র( মূল কপি সাথে আনতে হবে) , বিদ্যুৎ বিল ও খতিয়ান
নামা , শিক্ষাগত যোগ্যতা সনদ /ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স/চাকুরী আইডি কার্ড, বিশেষ
প্রয়োজন সাপেক্ষে অন্যান্য কাগজপত্র। মোটামুটি বলা যেতে পারে উপরোক্ত কাগজপত্র
গুলোই পাসওয়ার্ড এর ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়।
বিভিন্ন মেয়াদ অনুযায়ী পাসপোর্টের খরচসমুহ
বাংলাদেশের জনসাধারণের জন্য ই পাসপোর্টটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত হয়। বাংলাদেশের
নাগরিকদের আন্তর্জাতিকভাবে ভ্রমণের জন্য পাসপোর্ট এর কোন বিকল্প নেই তাই এই
পাসপোর্ট তৈরি ক্ষেত্রে কিছু মেয়াদ এবং অর্থ ব্যয় করতে হয় করতে যা পাসপোর্ট
আবেদনকারীর জন্য বাধ্যতামূলক , নিচে একটি টেবিলের সাহায্যে বিভিন্ন মেয়াদে
পাসপোর্ট ও এর মূল্য ভ্যাটসহ তালিকা দেয়া হলো
পৃষ্ঠা
দিন
বছর
খরচ(ভ্যাটসহ)
৪৮পৃষ্ঠা
সাধারন ২১ দিন
৫ বছর
৪,০২৫
৪৮পৃষ্ঠা
জরুরি ১০ দিন
৫ বছর
৬,৩২৫
৪৮পৃষ্ঠা
অতি জরুরি ২দিন
৫ বছর
৮,৬২৫
৪৮পৃষ্ঠা
সাধারন ২১ দিন
১০ বছর
৫,৭৫০
৪৮পৃষ্ঠা
জরুরি ১০ দিন
১০ বছর
৮,০৫০
৪৮পৃষ্ঠা
অতি জরুরি ২দিন
১০ বছর
১০,৩৫০
৬৪পৃষ্ঠা
সাধারন ২১ দিন
৫ বছর
৬,৩২৫
৬৪পৃষ্ঠা
জরুরি ১০ দিন
৫ বছর
৮,৬২৫/১০,৩৫০(প্রয়োজন বিশেষে)
৬৪পৃষ্ঠা
অতি জরুরি ২দিন
৫ বছর
১২,০৭৫
৬৪পৃষ্ঠা
সাধারন ২১ দিন
১০ বছর
৮,০৫০
৬৪পৃষ্ঠা
জরুরি ১০ দিন
১০ বছর
১০,৩৫০
৬৪পৃষ্ঠা
অতি জরুরি ২দিন
১০ বছর
১২,০৭৫
একজন নাগরিকের জন্য ই -পাসপোর্ট কতটি গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশের জন্মগ্রহণকৃত প্রত্যেকটি নাগরিকের কাছেই পাসপোর্ট খুবই
গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটির মাধ্যমে সে ভ্রমণ এবং চিকিৎসার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে
দেশের বাইরে যেতে পারে এবং এই পাসপোর্ট এর মাধ্যমে সে নিজের পরিচয় বহন করতে
পারে যদি কোন শিক্ষার্থী ভেবে থাকেন যে সে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে
পড়াশোনা করবে তাহলে সেক্ষেত্রে পাসপোর্ট থাকা অপরিহার্য।
যদি কোন যুবক কর্মজীবনের জন্য দেশের বাইরে যেতে চাই তাহলে সে ক্ষেত্রে তার
পাসপোর্ট থাকা জরুরি ,উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মুদ্রার মান যথেষ্ট পরিমাণের ভালো
সেক্ষেত্রে কাজের সুযোগও অনেক বেশি থাকে তাই বাইরের দেশগুলোতে শিল্প
কর্মসংস্থানের জন্য বাংলাদেশের নাগরিক নেয় তো সেই ক্ষেত্রে আবেদন করার
জন্য সব প্রথমে পাসপোর্ট এর প্রয়োজন হয় কারণ এই পাসপোর্ট এর মাধ্যমে তার
পরিচয় ফুটে উঠে সে বাংলাদেশের নাগরিক সে বাংলাদেশের জন্মগ্রহণ করেছে।
অনলাইনে ই -পাসপোর্ট রেজিস্ট্রেশন ও চেক করার ধাপগুলো
অনলাইনে ই-পাসপোর্ট রেজিস্ট্রেশন ও চেক করার জন্যআমাদের E-Passport Online
Registration portal নামক একটি ওয়েবসাইটে যেতে হবে । এটি একটি সরকারি
ওয়েবসাইট । এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর কিছু ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হবে
। যেমন - নাম, এনআইডি অনুযায়ী জন্ম তারিখ ,স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানা
সঠিকভাবে প্রদান করতে হবে।
এরপর পাসপোর্ট এর মেয়াদ অনুযায়ী ব্যাংক বা অনলাইনের মাধ্যমে টাকা পেমেন্ট
করতে হবে । সকল কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেলে ফরমটি জমা দেওয়ার পর একটি
অ্যাপার্মেন্ট স্লিপ পাবেন । যার মধ্যে নির্দিষ্ট দিন ও তারিখ উল্লেখ থাকবে ।
সেই দিন ও তারিখ অনুযায়ী পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে আঙ্গুলের
ছাপ, ছবি ,স্বাক্ষর আসতে হবে । কিছুদিন পরে আপনি অনলাইন চেক স্ট্যাটাসের
মাধ্যমে আপনার ই পাসপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে কিনা দেখতে
পাবেন।
ই -পাসপোর্ট এর ধরন অনুযায়ী ডেলিভারির সময়
অনলাইনে এই পাসপোর্ট রেজিস্ট্রেশন ও বায়োমেট্রিক পদ্ধতি দ্বারা আঙ্গুলের ছাপ,
স্বাক্ষর ও ছবি জমা দেওয়ার ওপর নির্ভর করে আপনার পাসপোর্টটি কবে
ডেলিভারি হবে। যেহেতু বিভিন্ন পৃষ্টা ও বিভিন্ন মেয়াদের পাসপোর্ট রয়েছে
সেক্ষেত্রে পাসপোর্ট ডেলিভারির ডেটে একটু ভিন্নতা দেখা যায় যেমন অতি জরুরী
পাসপোর্ট গুলোর ক্ষেত্রে দুই দিনের মধ্যে ডেলিভারি দেয়া হয়, জরুরী পাসপোর্ট
গুলোর ক্ষেত্রে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে দেয়া হয়, আর সাধারণ পাসপোর্টগুলো ২১
থেকে ৩০ দিনের মধ্যে দেওয়া হয়।
পাসপোর্ট ডেলিভারি দেওয়ার আগের দিন
আপনার যে ফোন নাম্বারটি তথ্যে দেওয়া হয়েছিল সে ফোন নাম্বারে একটি এসএমএস আসবে
অথবা আপনি চাইলে ই পাসপোর্ট অনলাইন রেজিস্ট্রেশন পোর্টালে গিয়ে আপনার পাসপোর্টটি
বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারবেন। আপনার পাসপোর্টটি সম্পন্ন ভাবে প্রস্তুত
হয়ে গেলে, পাসপোর্টটি সংগ্রহের সময় অবশ্যই ডেলিভারি স্লিপ ও পূর্বের কোন
পাসপোর্ট থাকলে সঙ্গে নিয়ে যাবেন , যাতে আপনাকে পরবর্তীতে কোন বিপদে সম্মুখীন না
হতে হয়।
ই -পাসপোর্ট সংশোধনীয় উপায় ও তথ্য সেবা
২০২২ সালের পর থেকে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর একটি প্রজ্ঞাপন
জারি করেন, যেখানে বলা হয়েছেন যাদের ই পাসপোর্ট কারণবশত ভুল
হয়েছে তারা চাইলে সকলে ই -পাসপোর্ট এর ভুল তথ্য সংশোধন করতে পারবেন। ই-
পাসপোর্টে ভুল সংশোধন করতে প্রথমে E-Passport Online Registration portal নামক একটি ওয়েবসাইটে যেতে হবে।
Re-issue অপশনে গিয়ে সিলেক্ট করতে হবে এবং সেখানে সংশোধনের কারণ উল্লেখ
করতে হবে এরপর ১৮ বছরের নিচে হলে জাতীয় পরিচয় পত্র বা ১৮ বছরের ওপরে হলে জন্ম
সনদপত্র অনুযায়ী সঠিক নাম , জন্মতারিখ ও ঠিকানা সহ বিভিন্ন তথ্য সঠিকভাবে
দিয়ে ফর্মটি পূরণ করতে হবে । ব্যাংক অথবা অনলাইনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় টাকা
পেমেন্ট করতে হবে। ই পাসপোর্ট সংশোধনীয় উপায় ও তথ্য সেবা নিতে আপনারা চাইলে
ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন।
অনলাইনের মাধ্যমে পাসপোর্ট নবায়ন (রিনিউ)তথ্য সেবা
পাসপোর্ট বানানোর সময় যেমন কিছু নিয়ম নীতি, মেয়াদ ,ডেলিভারির
সময় , অনুসরণ করতে হয়। ঠিক তেমনি পাসপোর্ট রিনিউ বা নবায়ন করার সময়
মেয়াদ ও ডেলিভারির সময় অনুযায়ী ১৫ শতাংশ ভ্যাট সহ খরচ বহন করতে
হয়। প্রথমে E-Passport Online Registration portal নামক একটি ওয়েবসাইটে যেতে হবে। এপ্লাই অনলাইন গিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে এবং সে একাউন্টে আপনার
ব্যক্তিগত সকল তথ্য প্রদান করতে হবে ।
এরপর পাসপোর্ট এর পৃষ্ঠা ও মেয়াদ অনুযায়ী ধরন সিলেক্ট করুন। ব্যাংক অথবা
অনলাইনে পাসপোর্ট এর ধরন অনুযায়ী টাকা পেমেন্ট করতে হবে, ফ্রম পূরণ করে
সাবমিট করার পর এ্যাপয়েনমেন্ট লেটার বের করতে হবে এবং নির্দিষ্ট দিন ও
সময় প্রয়োজনীয় সকল গুরুত্বপূর্ণ কাগজ নিয়ে ও পূর্বের পাসপোর্ট সহ ইমিগ্রেশন
ও পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে হাতের ছাপ , ছবি ও
স্বাক্ষর দিয়ে আসতে হবে। এবং পরবর্তীতে আপনার ই পাসপোর্ট
নবায়ন হয়েছে কিনা মোবাইল ফোনে এসএমএস এর মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে।
মোবাইল এসএমএস এর মাধ্যমে পাসপোর্ট চেক করার নিয়ম
মোবাইল ফোন তথ্য প্রযুক্তির একটি অন্যতম মাধ্যমিক হিসেবে কাজ করে থাকে। মোবাইল
ফোনের মাধ্যমে মানুষ সহজে এক প্রান্ত থেকে অনুপ্রান্তে যোগাযোগ করতে পারে । ঠিক
অনুরূপভাবে এই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মানুষ ঘরে বসে খুব সহজে ইন্টারনেট সংযোগের
মাধ্যমে খুব সহজে বিভিন্ন ধরনের খবর ও রেজাল্ট জানতে পারে।
ঠিক এই প্রযুক্তির যুগে এসে আমরা খুব সহজে চিন্তা করতে পারি যে, মোবাইল ফোনের
এসএমএস এর মাধ্যমে পাসপোর্ট চেক করা সম্ভব। এই পাসপোর্ট চেক করার জন্য আমাদের
খুব কঠিন কোন কিছু করতে হয় না। প্রথমে ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে passport
ইস্পেস দিয়ে <Application ID> লিখে ১৬৮৮৫ নাম্বারে পাঠাতে
হবে এর বিপরীতে একটি ফিরতি মেসেজ আসবে এবং আপনার বর্তমান পাসপোর্ট এর অবস্থা
সম্পর্কে জানিয়ে দেওয়া হবে। ঠিক এভাবে খুব সহজে ঘরে বসে মোবাইল ফোনের
এসএমএসের মাধ্যমে আপনারা ই -পাসপোর্ট চেক করতে পারবেন।
উপসংহার পাসপোর্ট কিভাবে চেক করে অনলাইনে
ব্যক্তির তার নিজস্ব স্বতন্ত্র অধিকারের জন্য ই পাসপোর্ট ব্যবহার করে থাকে এবং সে
তার ইচ্ছা অনুযায়ী যে কোন দেশে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে সরকারি কর্তৃক অনুমতি নিতে
পারে। বাংলাদেশে যেকোনো নাগরিক দেশের বাইরে ব্যবসা হোক অথবা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে
কিংবা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গেলে তাকে অবশ্যই পাসপোর্ট গ্রহণ করতে হবে।
যেহেতু পাসপোর্ট মেয়াদ ভিত্তিক হয় সে ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে এটি মেয়াদ
উত্তীর্ণ হয়েছে কিনা? যদি পাসপোর্ট এর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয় তাহলে সেটি পুনরায়
রিনিউ করার জন্য আবেদন করতে হবে যাতে পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোন
সমস্যার সম্মুখীন না হতে হয়। আর এটি খুব সহজে অনলাইনের মাধ্যমে পাসপোর্ট চেক করে
এই সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে।
আপনি সাগিরা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url