মানিপ্লান্ট গাছ কোথায় রাখা উচিত ও এর যত্ন
অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সহজে যত্ন নেওয়া যায় এমন একটি গাছ হচ্ছে মানিপ্লান্ট এটি ইনডোর প্লান্ট হিসেবে পরিচিত এটি কেবল ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না বরং পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপযোগী সাধারণত মানুষ এই গাছকে মানিপ্লান্ট হিসেবে চিনে থাকে কিন্তু এই গাছের একটি বৈজ্ঞানিক নামও আছে
বৈজ্ঞানিক ভাষায় এটিকে প্রথম বা ডেভিলাস আইভী বলে এর পাতাগুলো সাধারণত হাট বা হৃদয় পিন্ডের আকৃতি হয়ে থাকে সবুজ হালকা সবুজ কিংবা হলুদ সবুজ দুই কালারেরই হতে পারে এর পাতা লতানো উদ্ভিদ তাই এটা টবে ঝুলন্ত ঝুড়িতে অথবা কোন কাঠ বা কাঁচের বোতলেও সহজে বেড়ে উঠে
পেইজ সূচিপত্র মানিপ্লান্ট গাছ কোথায় রাখা উচিত ও এর যত্ন
- মানিপ্লান্ট গাছ কোথায় রাখা উচিত ও এর যত্ন
- মানিপ্লান্ট গাছ কোথায় রাখা উচিত
- মানিপ্লান্ট গাছ যেখানে রাখ রাখা উচিত নয়
- কেন ঘরে মানিপ্লান্ট গাছ রাখা উচিত
- মানিপ্লান্ট গাছের বংশবৃদ্ধি
- মানিপ্লান্ট গাছের জন্য যেমন ধরনের মাটির প্রয়োজন
- মানিপ্লান্ট এর জন্য আলোর ব্যবস্থা
- মানিপ্লান্ট গাছের যত্ন
- মানিপ্ল্যান্টের জন্য কেমন সার প্রয়োগ করা উচিত
- মানিপ্ল্যান্টের সাধারণ কিছু সমস্যা ও তার সমাধান
- উপসংহার মানিপ্লান্ট গাছ কোথায় রাখা উচিত ও এর যত্ন
মানিপ্লান্ট গাছ কোথায় রাখা উচিত ও এর যত্ন
কর্মব্যস্ততা জীবনে যেখানে মানুষ নিজেকে সময় দিতে পারেন না ,সেখানে গাছপালা পরিচর্যা করার খুব একটা সহজ নয় । তাই এই কর্মব্যস্ততা জীবনে মানুষ একটু স্বস্তির নিঃশ্বাসের জন্য ঘরের বারান্দায় অথবা ঘরের কোনায় ইনডোরপ্লান্ট লাগিয়ে থাকে । ইনডোর প্ল্যান্টের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম হল মানিপ্ল্যান । মানিপ্লান্ট শুধু একটি সাধারণ লতানো উদ্ভিদ নয় এটি সময়কালীন ইনডোর গার্ডেনিং এর জন্য খুবই বিখ্যাত । মানিপ্লান এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর চমৎকার হৃৎপিণ্ড আকৃতি পাতা ।গারো সবুজ পাতার বুকে হালকা হলুদ বা ক্রিম রঙের জলছাপ ।
ঘরের ভেতর এক মায়াবী ও শান্তির পরিবেশ তৈরি করে দেয় ,এর লতানো স্বভাবের কারণে
মনের মত করে সাজিয়ে নেওয়া যায়। মানিপ্লান্ট শুধু বাহিক সৌন্দর্যই দেয় না এর
পেছনে রয়েছে গভীর স্বাস্থ্যগত এবং মনস্তাত্ত্বিক শান্তি । বৈজ্ঞানিকদের মতে একটি
ঘরের আবদ্ধ বাতাস থেকে ফরমালডিহাইড ,বেনজিন, জাইলিন এবং কার্বন মনোক্সাইড এর মত
ক্ষতিকর অদৃশ্য টক্সিন বা বিষাক্ত গ্যাস শোষণ করে বাতাসকে বিশুদ্ধ রাখে। এই
মানিপ্লান্ট পাশাপাশি মানিপ্লান্ট ঘরের ইতিবাচক শক্তির উৎস হিসেবেও বিবেচনা করা
হয়। প্রচলিত লোক্য বিশ্বাস রয়েছে যে, এ গাছটি সঠিক পরিচর্যা ও বৃদ্ধি হলে ঘরের
লোকেদের জন্য সৌভাগ্য সুখ শান্তি এবং আর্থিক সম্প্রীতি বয়ে আনে । আর সম্ভবত এ
বিশ্বাস থেকে এর নাম মানিপ্লান্ট বা টাকার গাছ রাখা হয়েছে ।তবে বৈজ্ঞানিকভাবে এর
কোন প্রমাণ নেই।
মানিপ্লান্ট গাছ কোথায় রাখা উচিত
মানিপ্লান্ট গাছকে সুস্থ ,সতেজ ও চির সবুজ রাখতে হলে ঘরের এমন এক জায়গা বেছে নেওয়া উচিত যেখানে তার প্রয়োজন অনুযায়ী আলো বাতাস পায় ।মানিপ্লান্টের জন্য পরোক্ষ আলো সবচেয়ে উপকারী ঘরের উত্তর বা পূর্ব দিকে জানালার পাশে্র বারান্দায় এটাকে রাখা যায় । সকালে মৃদু রোদ পাবে এবং পাতার বৃদ্ধির জন্য খুবই উপযোগী হবে। আবার ঘরে যে অংশের সাধারণত আলো বাতাসের চলাচল থাকে।
আরো পড়ুনঃ মেথি ভেজানো পানি খেলে কি কিডনির সমস্যা হয়
যেমন - ড্রয়িং রুমের কর্নারে , টেবিলের ওপর ,টিভির কেবিনেটের পাশে অথবা সোফার পেছনের খালি জায়গায় এটি রাখলে ঘরের সৌন্দর্য অনেক অংশে বৃদ্ধি পায়। মানিপ্লান্ট বাতাস পরিষ্কার রাখে এবং চোখের ক্লান্তি দূর করে তাই পড়ার টেবিলে বা কাজের ডেক্সে একটি ছোট কাঁচের পাত্রে পানিতে মানিপ্লান্ট রাখা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। অবাক হলেও এটা সত্য মানিপ্লান্ট বাথরুমের আদ্রতার জন্য খুবই মানানসই বাথরুমে যদি একটি ছোট জানালা থাকে যেখান দিয়ে সামান্য আলো অথবা রোদ আসে সেখানে মানিপ্লান্ট গাছ রাখা যায় । এটি বাথরুমের আদ্রতা শোষণ করবে।
মানিপ্লান্ট গাছ যেখানে রাখ উচিত নয়
মানিপ্লান্ট গাছ যেহেতু সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে ,সে ক্ষেত্রে এই গাছ যে কোন জায়গাতে রাখলে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে এটাই স্বাভাবিক । মানুষ স্বাভাবিক কর্মব্যস্ততার পরে বাড়িতে এসে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে একটু শান্তির পরিবেশ খুঁজে । মানুষ সচরাচর মানিপ্লান্ট ঘরে অথবা বারান্দায় রাখতে বেশি পছন্দ করে কিন্তু আমাদের কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হয় যেমন মানিপ্ল্যান সরাসরি মাটিতে রাখা যায় না।
তাই বারান্দায় এমন জায়গায় রাখতে হবে যেন সরাসরি সূর্যের আলো না পরে কিন্তু
পর্যাপ্ত উজ্জ্বল আলো পায় । অতিরিক্ত রোদে পাতা পুড়ে যাওয়া সম্ভাবনা থাকে। সে
ক্ষেত্রে গাছ বৃদ্ধি হওয়ার সুযোগ পায় না। আবার বারান্দার মেঝেতে সরাসরি
না রেখে যদি কোন স্ট্যান্ড ,টেবিল বা ঝুলন্ত টবে গাছ রাখা যায় তাহলে এতে গাছের
লতা মাটিতে স্পর্শ করে নত। অনেক ক্ষেত্রে বাস্তুশাস্ত্র মোতাবেক অনেকে মনে
করে ,মানিপ্লান্ট ঘরে এবং বারান্দায় সঠিক নিয়মে ও সঠিক দিশায় রাখলে
বাড়িতে সুখ ,সমৃদ্ধি এবং ইতিবাচক শক্তি বহুগুণ বেড়ে যায়।
কেন ঘরে মানিপ্লান্ট গাছ রাখা উচিত
বায়ু শোধনকারী উদ্ভিদের তালিকায় মানিপ্লান্টের নাম রয়েছে। এটি ঘরের বাতাস থেকে ক্ষতিকর টক্সিন যেমন -ফরমালডিহাইড, বেনজিন ও জাইলিন দূর করতে সাহায্য করে তাই এটি ঘরের পরিবেশকে আদ্রতা ধরে রাখে এবং ঘরকে সুস্থ রাখে। এটি ঘরের ভেতরে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। এই গাছের খুব বেশি যত্নের প্রয়োজন হয় না তাই নতুন বাগানপ্রেমীদের জন্য এটি একটি আরামদায়ক হয়ে থাকে।
ঘরে সবুজের উপস্থিতি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং কাজের মনোযোগ
বাড়াতে সাহায্য করে। প্রচলিত বিশ্বাস বা লোক কথা অনুযায়ী ঘরে মানি প্লান্ট
রাখলে ইতিবাচক শক্তির বিকাশ ঘটে এবং আর্থিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়। তাই মানুষ
নিজের সৌভাগ্য ,সুখ-শান্তি ও আর্থিক সম্পত্তি বয়ে আনার ক্ষেত্রে মানিপ্লান্টের
গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
মানিপ্লান্ট গাছের বংশবৃদ্ধি
মানিপ্লান্ট গাছের জন্য একটি সুস্থ লতা বেছে নিতে হবে । লতা যেখানে পাতা বের হয়েছে তার ঠিক নিচ থেকে কেটে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে কাটার অংশে যেন একটা বা দুইটা পাতা গিট থাকে । এবার কাটা অংশটি পানিতে বা সরাসরি নরম মাটিতে পুঁতে দিতে হবে । কিছুদিন পর সেখান থেকে নতুন শিকড় গজাবে এবং এভাবে মানিপ্লান্ট গাছ আস্তে আস্তে নিজের বংশবিস্তার করে থাকে । এটি খুব সহজে এবং কোন কষ্ট ছাড়াই লাগানো সম্ভব এটি যেকোনো পাত্রে লাগানো যায় । এবং এটি লতাযুক্ত গাছ হওয়ায় এটি যেকোনো ধরনের আকৃতিতে ঝোলানো সম্ভব ।
রোগমুক্ত এবং লম্বা লতানো ডাল বৃদ্ধির জন্য মাঝেমধ্যে মানিপ্লান্ট কাজকে
কাটিং করতে হবে। মানিপ্লান্ট গাছ কাটিং করার মাধ্যমে গাছটি ঝোপালো
টাইপের হবে। মানিপ্লান্ট বংশবৃদ্ধির জন্য বর্ষাকাল এবং গ্রীষ্মকাল সব থেকে
উপযুক্ত সময়। শীতকালে এদের বৃদ্ধির গতি একটু ধীরে হয়ে যায় তাই তখন কাটিং না
করাই ভালো হবে । পানিতে চাষের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্লোরিন যুক্ত বা আয়রন যুক্ত
পানি ব্যবহার করা উচিত নয়। কলের পানি ব্যবহার করতে হলে তা একটি পাত্রে ২৪ ঘন্টা
খোলা রেখে তারপর ব্যবহার করতে হবে এই পদ্ধতি গুলা মেনে চললে মানিপ্লান্ট গাছের
বংশবিস্তার দ্রুত হবে।
মানিপ্লান্ট গাছের জন্য যেমন ধরনের মাটির প্রয়োজন
মানি প্লান্ট গাছের ভালো যত্ন ও বৃদ্ধির জন্য সঠিক মাটি নির্বাচন করা খুবই দরকার । এ গাছ সাধারণত যেকোনো পরিবেশের টিকে থাকতে পারে । তাই সঠিক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ভালো এমন মাটি পেলে গাছের পাতা অনেক বড় সবুজ , সতেজ থাকে। মানিপ্ল্যান্টের মাটিতে পানি জমে থাকাএকদমই চলবে না। পানি জমে থাকলে গাছের শিকড় পচে যেতে পারে । মানি প্ল্যান্টের গাছের মাটি খুব শক্ত বা আঠালো হওয়া যাবে না । ঝুরঝুরে মাটিতে শিকড় সহজে চলাচল করতে পারে এবং অক্সিজেন উপায় তাই মানিপ্লান্ট এর জন্য মাটি নির্বাচন করার সময় অবশ্যই ঝুরঝুরে মাটির নির্বাচন করতে হবে।
আরো পড়ুনঃ কাপড় থেকে কালির দাগ তোলার উপাই ও করণীয়
মানিপ্ল্যান্টের মাটি হতে হবে পুষ্টি সমৃদ্ধ যেমন মাটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জৈব সার থাকা প্রয়োজন যা গাছ দ্রুত বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে । সাধারণ ও বাগানের মাটি ৪০ শতাংশ একটি গাছের মূল ভিত্তি তৈরি করে ,তাই জৈব সার বা কম্পোস্ট ৩০ শতাংশ জল নিষ্কাশন সহজ করে। বালি বা কোকো পিঠ একটি গাছকে ২০ শতাংশ মাটিকে ঝুরঝুরে রাখে এবং জল নিষ্কাশন সহজ করে। ধানের তুষ বা পার লাইট ১০% মাটিতে বাতাস চলে জায়গা তৈরি করতে সাহায্য করে, তাই মানিপ্লান্ট এর মাটি নির্বাচন করতে হলে অবশ্যই এই উপাদানগুলো মাটিতে মিশিয়ে সেই মাটি প্লান্টের গাছে ব্যবহার করলে মানিপ্লান্ট এর গাছ দ্রুত বৃদ্ধি এবং সহজেই পাতা বড় থাকবে।
মানিপ্লান্ট এর জন্য আলোর ব্যবস্থা
মানি প্ল্যান্টের বৃদ্ধির জন্য ও সবুজ পাতা এবং লতানো রূপের জন্য আলোর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । এ গাছ কম আলোতে টিকে থাকতে পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, এটি আলো ছাড়ায় ভালো থাকরায়। মানিপ্লান্ট এর জন্য পর্যাপ্ত আলোর প্রয়োজন রয়েছে ,এর মানে হল গাছটি এমন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে প্রচুর আলো আছে। কিন্তু সূর্যের সরাসরি তাপ গাছে যেন না পরে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ভোরের বা সকালের নরম রোদ যেমন সকাল সাতটা থেকে নয়টা পর্যন্ত এই রোদটি গাছে জন্য খুবই উপকারী । তবে দুপুরে কড়া রোদ গাছের জন্য ক্ষতিকর মানি প্লান্ট যদি সরাসরি সূর্যের আলোর নিচে রাখা হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে পাতাগুলো পুড়ে যেতে পারে । যার ফলে পাতায় খয়রি বা কালো ছোপ পড়ে। পাতার স্বাভাবিক সবুজ রং নষ্ট হয়ে যেতে পারে ,ফ্যাকাসেও বা হলুদ হয়ে যাবে ।
অতিরিক্ত তাপে গাছটি শুকিয়ে ঝিমিয়ে পড়তে পারে এবং লতানো ভাব চলে যেতে পারে। যদি কেউ ঘরের মধ্যে রাখতে চাই তাহলে জানালার পাশে পূর্ব বা উত্তরমুখী জানালার পাশে এই গাছ রাখা সবচেয়ে উপযোগী কারণ এইখানে রোদের তীব্রতা কম থাকে এবং হালকা ঠান্ডা বাতাস সব সময় আসা-যাওয়া করে। যদি অতিরিক্ত রোধ পড়ে সে ক্ষেত্রে পর্দা ব্যবহার করা যেতে পারে । কৃত্রিম আলো ব্যবহার করেও মানিপ্লান্টের গাছে আলো দেয়া সম্ভব যেমন, আপনার ঘরে যদি প্রাকৃতিকভাবে আলো একদমই না আসে তবে ঘরে সাধারণ টিউবলাইট বা এলইডি লাইটের আলোতে মানিপ্লান্ট গাছ বেঁচে থাকে । তবে সপ্তাহে অন্তত একদিন গাছতাকে কয়েক ঘন্টার জন্য একটু আলোর জায়গা রাখতে হবে।
মানিপ্লান্ট গাছের যত্ন
মানিপ্লান্ট কাজ খুবই শক্ত এবং কম পরিশ্রমে বেঁচে থাকতে পারে । কিন্তু কিছু ছোটখাটো বিষয় নিয়মিত যত্ন নিলে এ গাছটি আরো দ্রুত বৃদ্ধি পাবে । পাতাগুলো আকারে বড় হবে এবং সারা বছর সবুজ ও সতেজ পাতা থাকবে। মানিপ্লান্ট গাছে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু জিনিস খেয়াল রাখতে হবে যেমন, যদি টবের উপরে মাটি ভেজা থাকে তাহলে পানি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু যদি না থাকে তাহলে সে ক্ষেত্রে অবশ্য পানি দিতে হবে। আর এমন ভাবে পানি দিতে হবে যেন গাছের গোড়ায় কাঁদা কাঁদা ভাব না থাকে অথবা পানি জমা না থাকে । দুই থেকে তিন দিন পর পর পানি দিতে হবে ।কিন্তু শীতকালে গাছের বৃদ্ধি কমে যায় তাই সপ্তাহে একবার মাটি শুকিয়ে গেলে পানি দিতে হবে। আবার মানিপ্লান্ট গাছটি যদি পানির মধ্যে রাখা হয় অর্থাৎ কাছের পাত্রে অথবা কোন যারে গাছটি রাখা হয় তবে প্রতি ৭ থেকে ১০ দিন পরপর পাত্রের পানি পরিবর্তন করতে হবে । গাছটিকে ঝোপালো ও সবুজ ও সতেজ রাখার জন্য ছাটাই বা কোনিং করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । গাছে কোন পাতা হলুদ বা পোচে গেলে তা গোড়া থেকে কেটে ফেলতে হবে। এতে কাটা অংশের পাশ থেকে নতুন একাধিক ডাল বের হবে এবং গাছটি ঘন হবে । মানিপ্লান্ট গেছ যদি টবে রাখা হয় সেক্ষেত্রে টবের মাঝখানে একটা কোকোপিট বা শ্যাওলা দিয়ে তৈরি মসৃস্টিক গেথে দিতে হবে ।
লতাগুলো এই স্টিক এর সাথে আলাদা করে বেঁধে দিতে হবে শিকড় গুলো যখন স্টিকার ভেতরে
ঢুকে যাবে তখন গাছটি যেখান থেকে আদ্রতা ও পুষ্টি পাবে । এর ফলে পাতা আকার
স্বাভাবিকের চেয়েও বড় হবে । পাতার ওপরে যদি ধুলাবালু জমে থাকে তাহলে গাছ ঠিকমতো
সালোকসংশ্লেষণ করতে পারবে না অর্থাৎ খাবার তৈরি করতে পারবেনা। এবং গাছের
উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে ১৫ দিনে একবার একটি ভেজা নরম কাপড়
দিয়ে পাতাগুলো উপরে ধুলা ঝেরে ফেলে দিতে হবে অথবা স্প্রে বোতল দিয়ে সাধারণত
পানি পুরো গাছে স্প্রে করে ধুয়ে দিতে হবে ,যাতে পাতার উপরে কোন ময়লা না থাকে।
মানিপ্লান্ট গাছে খুব বেশি সারের প্রয়োজন হয় না, তাই দুই থেকে তিনবার টবের
মাটিতে এক মুঠো ভার্মি কম্পোস্ট বা পাতা সার দিয়ে মাটি ওলট-পালট করে দিতে হবে।
মাসে একবার চায়ের পাতা ভেজানোর পানি বা খুব পাতলা করে কাটা সরিষার খোল ভেজানো
পানি গাছের গোড়ায় দিতে হবে । শীতকালে কোন সার দেওয়ার প্রয়োজন নাই।
মানিপ্ল্যান্টের জন্য কেমন সার প্রয়োগ করা উচিত
মানিপ্লান্ট গাছ মূলত সুন্দর ও সতেজ পাতার জন্য সবার নজর কেড়েছে । এই
গাছের কোন ফুল বা ফল হয় না তার পরেও মানুষ এই গাছটি প্রতিনিয়ত নিজ বাগানে অথবা
বাসাতে টবে লাগাচ্ছত। মানিপ্লান্ট গাছের পাতাকে চকচকে সুন্দর ও সবুজ ,সতেজ করার
জন্য নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ সার ব্যবহার করা খুবই দরকার। মানিপ্লান্ট গাছের জন্য সার
খুবই উপযোগী তাই ভার্মিকম্পোস বা কেঁচো সার সবচেয়ে উপযোগী । এতে প্রচুর
নাইট্রোজেন এবং অন্যান্য প্রয়োজনে উপাদান থাকে । দুই থেকে তিন মাস পরপর টপের
মাটিতে এক থেকে দুই মোট ভার্মি কম্পোস্ট মিশিয়ে দিতে হবে।
চা পাতার সার চা খাওয়ার পর ব্যবহারিত চা পাতা ভালো করে ধুয়ে কড়া রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। এই শুকনো চা পাতা মাসে একবার মাটির সাথে মিশিয়ে নিতে হবে ।এটি মানিপ্লান্ট এর জন্য খুবই উপযোগী সার হিসেবে পরিচিত।
গোবর সার ভালোমতো শুকানো ও পুরনো গোবর সার মাটির উর্বরতা বাড়ায়। তবে কাঁচা গোবর কখনোই দেয়া যাবে না এতে গাছে শিকড় পুড়ে যেতে পারে।
সরিষার খোল পচা পানি সামান্য সরিষার খোল চার থেকে পাঁচ দিন পানিতে ভিজিয়ে
রাখতে হবে , এরপর সে পানি ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিয়ে
আরও সাধারণ পানি মিশিয়ে একদম পাতলা করে গাছের গোড়ায় দিতে হবে । এটি গাছের
পাতার আকার বড় করতে প্রচুর সাহায্য করে।
মানিপ্ল্যান্টের সাধারণ কিছু সমস্যা ও তার সমাধান
মানিপ্লান্ট গাছের সবচেয়ে পরিচিত একটি সমস্যা পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া। এর প্রধান
কারণ হলো অতিরিক্ত পানি দেয়া যার ফলে শিকড় অক্সিজেন পায় না ।এবং পচে যায় টবে
নিচে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ভালো না থাকাত। পুষ্টির অভাব বা মাটি অতিরিক্ত
শুকিয়ে যাওয়া ।এগুলোর কারণে মানিপ্লান্টের পাতা হলুদ হয়ে যায় ,এই সমস্যা থেকে
সমাধানের জন্য টবের উপরের মাটি সম্পূর্ণ না শুকানো পর্যন্ত পানি দেয়া যাবে না।
টবে নিচে ফুটো করে দিতে হবে যাতে জমে থাকা পানিগুলো পড়ে যায় । হলুদ হয়ে যাওয়া
পাতাগুলো কাঁচি দিয়ে কেটে বাদ দিয়ে দিতে হবে।
আরো পড়ুনঃ ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে ভাল মোবাইল ফোন
মানিপ্লান্ট গাছের আরেকটি সমস্যা হল পাতা চারপাশ বা ডগা পুড়ে যাওয়ার মত খয়রি
হয়ে যাওয়া। এর কারণ হতে পারে সরাসরি তীব্র সূর্যের আলো গাছটির উপরে পড়ছে অথবা
বাতাসের আদ্রতা খুব কমে যাওয়।পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ার কারণেও এটি হতে পারে । এই
সমস্যা থেকে সমাধানের জন্য গাছকে সরাসরি রোদের আলোর থেকে বিপক্ষে নিয়ে যেতে হবে
। গরমের দিনে স্প্রে বোতল দিয়ে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার গাছের পাতার উপরে পানি
স্প্রে করতে হবে । টবের মাটি আদ্র রাখতে হবে তবে কাদা কাদা করবে না।
অনেক ক্ষেত্রে মানিপ্লান্ট গাছের পাতা ও ডাল নরম হয়ে ঝিমিয়ে পড়ে । এর কারণ হতে
পারে শিকড় পচন রোগ। যেমন দীর্ঘদিন গোড়ায় পানি জমে থাকলে এটি হতে পারে । মাটি
অতিরিক্ত শুকিয়ে পাথর হয়ে যাওয়ার ফলে এটি হতে পারে । তাহলে এ থেকে সমাধানের
জন্য আমরা মাটি শুকানো পরে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি দিব । তবে পানিটি যেন জমে না
থাকে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
মানিপ্লান্ট গাছের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সেটা হচ্ছে পোকার আক্রমণ। ঘরে
বাতাস চলাচল কম হওয়ার কারণে ঘর আদ্রতা হারায় সে কারণে পোকা গাছকে
আক্রমণ করতে পারে ।অতএব এটা থেকে সমাধানের জন্য আক্রান্ত অংশটি পানি দিয়ে ভালো
করে ধুয়ে ফেলতে হবে ।১ লিটার জলে আধা চামচ লিকুইড ডিশ ওয়াশার বা শ্যাম্পু এবং
ভালো করে স্প্রে করতে হবে তাহলে এই সমস্যা থেকে সমাধান পাওয়া সম্ভব।
উপসংহার মানিপ্লান্ট গাছ কোথায় রাখা উচিত ও এর যত্ন
মানিপ্লান্ট ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে এবং বাতাসকে শুদ্ধ করতে খুবই উপকারী। তবে এর যথাযথ বৃদ্ধি ও সতেজ রাখার জন্য গাছটিকে সঠিক স্থান নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানিপ্লান্ট রাখার জন্য এমন জায়গা বেছে নিতে হবে , যেখানে পরোক্ষ উজ্জ্বল আলো আসে এবং ভালো বাতাস চলাচলে ব্যবস্থা রয়েছে।
ঘরের ভেতরের রাখার
জন্য পূর্ব বা উত্তরমুখী জানালার পাশে রাখলে এটি সতেজ থাকবে। অতিরিক্ত পানি
দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং টবের উপরের মাটি শুকিয়ে গেলে তখন পানি দিতে হবে ।
মানিপ্লান্ট গাছ সঠিকভাবে বেড়ে উঠার জন্য একটি মস্তস্টিক ,নিয়মিত পাতা পরিষ্কার
রাখা এবং বছরে দুই থেকে তিনবার সামান্য জৈব সার প্রয়োগ করলে এই গাছ বছর পর বছর
বেঁচে থাকে এবং সতেজ ও সবুজ পাতা দিয়ে থাকে।

আপনি সাগিরা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url