কাপড় থেকে কালির দাগ তোলার উপাই ও করণীয়
অসাবধানতা বসত কলমের কালির দাগ লেগে যাওয়া অত্যন্ত সাধারণ একটি বিষয়। বিশেষ করে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী বা অফিসগামীদের পোশাকে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। অনেকে ভাবেন কালির দাগ লাগলে কাপড়টি বোধহয় আর ব্যবহার করা যাবে না । তবে প্রাচীনকাল থেকে মানুষ ঘরোয়া উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে কাপড় থেকে কালির দাগ তুলে আসছে।
কাপড়ের কালি দাগ লাগলে আতঙ্কিত না হয়ে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ঘরোয়া ও সহজ পদ্ধতি গুলো অবলম্বন করে আমরা ধাপে ধাপে কাপড় থেকে দাগ তুলতে পারব। সঠিক সময়ে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত এবং সামান্য যত্ন আপনার প্রিয় পোশাকটিকে ঠিক আগের মত সুন্দর করে তুলবে।
পেজ সূচিপত্রঃকাপড় থেকে কালির দাগ তোলার উপায় ও করণীয়
- কাপড় থেকে কালির দাগ তোলার উপায় ও করণীয়
- হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা রাবিং অ্যালকোহল
- টুথপেস্ট এর ব্যবহার
- লেবুর রস ও লবণ
- লিকুইড ডিশওয়াশার
- সাদা ভিনেগার
- দুধের ব্যবহার
- হেয়ার স্প্রে
- নেলপলিশ রিমুভার
- কাপড়ে কালির দাগ দূর করতে করণীয় কি
- উপসংহারঃ কাপড় থেকে কালির দাগ তোলার উপায় ও করণীয়
কাপড় থেকে কালির দাগ তোলার উপায় ও করণীয়
শখের প্রিয় পোশাকে হুট করে এক ফোটা নীল বা কালো দাগ পড়ে গেলে পুরোপুরি পোশাকটি সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায় । অনেকে মনে করেন কাপড়ের একবার কালীর দাগ লাগলে তা আর কোনভাবেই তোলা সম্ভব নয় । তবে আধুনিক যুগে উন্নত টেন্ড রিমুভারের পাশাপাশি আমাদের হাতের কাছে থাকা সাধারণ ঘরোয়া উপকরণ দ্বারা আমরা খুব সহজেই কাপড় থেকে কালির দাগ তুলে ফেলতে পারি। কাপড় থেকে কালির দাগ তোলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা। করা কলমে কালি সাধারণত বিভিন্ন ধরনের পিগমেন্ট টাই রং তেল ও রেজিনের মিশ্রণ থাকে ।
যা সাধারণত ডিটারজেন্ট ও পানি দ্বারা স্থায়ীভাবে চলে যায় না । কাপড়ে যদি
রাসায়নিক ব্লিচ ব্যবহার করা হয় তাহলে কাপড়টির গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়। কালির
দাগ দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক কৌশলগত পদ্ধতি বাজারে প্রচলিত
কেমিক্যাল মুক্ত ব্লিচিং পাউডার বা দাগ নাশকের পাশাপাশি রান্নাঘরে বা ওয়াশরুমে
থাকা হেয়ার স্প্রে ,দুধ ,সাদা ভিনেগার ,লিকুইড ডিসওয়াসার ,
লেবুর রস ,লবণ ,টুথপেস্ট কিংবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার এর মত উপাদান
গুলো কালি দাগ তুলতে জাদুর মত কাজ করে থাকে।
হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা রাবিং অ্যালকোহল
কাপড় থেকে বলপেন বা পার্মানেন্ট মার্কার দাগ অন্য কোন উপাদান দিয়ে না উঠলেও অ্যালকাহলে ছোয়ায় দ্রুত হালকা হয়ে যায় । কলমের কালিতে এমন কিছু তৈলাক্ত উপাদান ও রেজিন থাকে যা সাধারণত পানি বা সাবান ব্যবহার করলে যায় না । তাই হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও অ্যালকোহল ব্যবহারের মাধ্যমে এই দাগ তোলা সম্ভব । অ্যালকোহল খুব সহজেই বাষ্পীভূত হয়ে যায় ফলে এটি কাপড়ের সূতাকে অতিরিক্ত সময় ভিজিয়ে রাখে না এবং কাপড়ের রং ও সুতার গুণগত মান নষ্ট হয় না । একটি তুলার সাহায্যে বারিং অ্যালকোহল ভিজিয়ে দাগের ওপর সরাসরি চেপে ধরতে হবে। দাগের ওপর সরাসরি কয়েক ফোটা স্যানিটাইজার জেল ঢেলে দিতে হবে এবং আঙ্গুল দিয়ে হালকা ছড়িয়ে দিতে হবে।
উপাদানটিকে কালির ওপর ৩ থেকে ৫ মিনিট বসতে দিতে হবে যেন অ্যালকোহল কালির
কণাগুলোকে পুরোপুরি শুকিয়ে ফেলতে পারে। একটি পরিষ্কার শুকনো তুলা বা সাদা
কাপড় দিয়ে দাগের ওপর বারবার আলতো করে চাপ দিতে হবে এবং দেখতে হবে কাপড়ের কালি
তুলতে চলে আসছে কিনা । এই প্রক্রিয়াটি করার সময় ভুল করেও কাপড় ঘষা যাবে না
ঘষলে কালি ছড়িয়ে দাগ আরও বড় হয়ে যাবে। তুলাটি কালো হয়ে গেলে নতুন তুলা নিয়ে
আবার চাপুন। দাগ সম্পূর্ণ চলে না যাওয়া পর্যন্ত পুনরায় অ্যালকোহল বা
স্যানিটাইজার দিয়ে তুলাটিকে ধরে রাখতে হবে ।দাগ পুরোপুরি উঠে গেলে জায়গাটি
ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে। এবং এরপর স্বাভাবিক নিয়মে
ডিটারজেন্ট বা সাবান দিয়ে কাপড় ধুয়ে রোদে শুকাতে হবে।
টুথপেস্ট এর ব্যবহার
কাপড় থেকে বলপেন বা জেল কলমের কালি দূর করার জন্য টুথপেস্ট একটি অত্যন্ত সহজ এবং কার্যকারী ঘরোয়া উপাদান ।দাগ তোলার জন্য সব সময় সাধারণত সাদা পেস্ট ব্যবহার করতে হবে কোন ধরনের জেল , চারকোল বা রঙ্গিন টুথপেস্ট ব্যবহার করা যাবে না । কারণ এগুলো কাপড়ের উল্টা নতুন দাগ তৈরি করবে । দাগ লাগা অংশের ঠিক একটি নিচে পরিষ্কার সাদা সুতি কাপড় অথবা তায়ালিয়া দিতে হবে । যেন গলে যাওয়া কালি পেছনের দিকে ছড়িয়ে না পড়ে । দাগ লাগা অংশের ঠিক উপরে পর্যাপ্ত পরিমাণের সাদা টুথপেস্ট সরাসরি লাগিয়ে দিতে হবে যেন দাকটি পুরোপুরি পেস্টের নিচে ঢাকা পড়ে।
আরো পড়ুনঃ রাজশাহী কেন রেশম শিল্পের জন্য বিখ্যাত
এরপর পুরনো একটি নরম ব্রাশ অথবা হাতের আঙ্গুলের ডগার সাহায্যে গোল গোল
বৃত্তকার গতিতে আলতোভাবে ঘষতে হবে। ব্রাশ দিয়ে বেশি জোরে ঘষা যাবে না এতে
কাপড়ের সুতো নষ্ট হয়ে যেতে পারে । ঘষার পরে টুথপেস্ট ও কাপড়টিকে ৫ থেকে ১০
মিনিট এভাবেই রেখে দিতে হবে। এবার একটি ভেজা পরিষ্কার কাপড় বা তুলার
সাহায্যে চেপে চেপে টুথপেস্ট ও গলে যাওয়া কালি মুছে নিতে হবে । দাগ পুরোপুরি না
উঠলে এই প্রক্রিয়া আবার করতে হবে । এরপর দাগ চলে গেলে স্বাভাবিক নিয়মে
ডিটারজেন্ট অথবা সাবান দিয়ে কাপড় ধুয়ে রোদে শুকাতে হবে।
লেবুর রস ও লবণ
প্রাচীন কাল থেকে মানুষ ঘরোয়া পদ্ধতি হিসেবে লেবুর রস ও লবণ ব্যবহার করে আসছে।
লেবুর রসে রয়েছে এসিড এবং লবণে রয়েছে ক্ষয়কারী উপাদান । এই দুটো একসাথে মিলে
কাপড়ে সুতোর ক্ষতি না করে যদি কালির দাগ তুলতে কাজ করে । লেবুর রসে থাকা
সাইট্রিক এসিড একটি ব্লিচিং হিসেবে কাজ করে। এটি কালির ভেতরে পিগমেন্ট বা
রংয়ের কণাগুলোকে ভেঙে ফেলে। এবং কাপড়কে ক্ষতি ছাড়াই দাগমুক্ত করে। লবণএ রয়েছে
চমৎকার উপাদান লেবুর রস যখন কালি গলিয়ে দেয় লবণ তখন সেই তরল কালিকে কাপড়ের
গভীরে ছড়াতে না দিয়ে নিজের মধ্যে শুষে নেয় ।সাদা কাপড়ে কালির দাগ লাগলে এই
মিশ্রণটি সবচেয়ে বেশি কার্যকা্রি।
প্রথমে দাগ লাগা অংশটির নিচে একটি পরিষ্কার সাদা সুতির কাপড় অথবা তোয়ালিয়া
রাখতে হবে । যাতে করে কালি গোলে নিচের অংশের দিকে ছড়িয়ে না পড়ে । এরপর
কাপড়ে কালির দাগ লাগা অংশটির ওপর পর্যাপ্ত পরিমাণে সাধারণ খাওয়ার লবণ ছিটিয়ে
দিতে হবে। যেন দাগ পুরোপুরি লবণে ঢেকে যায় । এবার লবণের ওপর সরাসরি তাজা লেবুর
রস চিপে দিতে হবে। লেবুর রস ও লবণ মিলে একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া তৈরি হবে।
এরপর পুরনো ব্রাশ অথবা আঙ্গুলের ডগা দিয়ে গোল গোল বৃত্ত করার মত আলতো ভাবে ঘুষতে
হবে। লবণের দানাগুলো স্ক্রাবের মতো কাপড়ের ভেতর থেকে কালির দাগ তুলতে
সাহায্য করবে । মিশ্রণটি সহ কাপড়টি ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য রেখে দিতে হবে এরপর
সাধারন নিয়মে ডিটারজেন্ট অথবা সাবান দিয়ে কাপড়টি ধুয়ে রোদে শুকাতে
হবে।
লিকুইড ডিশওয়াশার
কাপড় থেকে কলমের কালির দাগ দূর করার জন্য লিকুইড ডিশওয়াশার একটি কার্যকরী ঘরোয়া উপাদান । লিকুইড ডিশওয়াশার এমন কিছু শক্তিশালী উপাদান থাকে যা কালির ভেতরে তেল এবং চর্বিযুক্ত উপাদান গুলোকে গলিয়ে ফেলতে সাহায্য করে । কাপড়ের দাগ লাগা অংশের ঠিক নিচে একটি শুকনা কাপড় অথবা তোয়ালা দিয়ে সুতি কাপড়টি রাখুন । এতে কালি গোলে গেলে নিচে চলে যাবে না। দাগের জায়গাটিতে সামান্য পানি দিয়ে হালকা ভিজিয়ে নিন, তবে খেয়াল রাখতে হবে পানি যেন বেশি ছড়িয়ে না পড়ে ।
দাগের ওপর সরাসরি কয়েক ফোঁটা লিকুইড ডিশওয়াশার ঢেলে দিন এরপর নরম টুথব্রাশ অথবা আঙ্গুলের ডগা দিয়ে দাগের ওপর গোল গোল ভাবে আলতো করে ঘসুন । কাপড়ের ক্ষতি যাতে না হয় সেই জন্য জোরে কাপড়টি ঘষবেন না । ঘষার পরের ভেতরে কাজ করার জন্য ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দিন। এবার একটি পরিষ্কার ভেজা কাপড় বা তুলা দিয়ে দাগের উপর চেপে চেপে বাড়তি কালি উঠে গেলে জায়গাটি ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এবং স্বাভাবিক নিয়মে ডিটারজেন্ট বা সাবান দিয়ে কাপড়টি ধুয়ে রোদে শুকাতে দিন।
সাদা ভিনেগার
কাপড়ে যেকোনো যদিও কঠিন দাগ দূর করার জন্য সাদা ভিনেগার অত্যন্ত কার্যকরী উপায়
। এটি কেবল দাগ দূর করে না বরং কাপড়ের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে ।
পাশাপাশি দুর্গন্ধও দূর করে। রাসায়নিক ব্লিচ বা দামি স্ট্যান্ড রিমুভারের
তুলনায় সাদা ভিনেগার অত্যন্ত সাশ্রয়ী হয়ে থাকে । সাদা ভিনেগারের প্রায় ৫%
এসিটিক অ্যাসিড থাকে ,যা কাপড়ের রংয়ের কোনো ক্ষতি করে না বরং সরাসরি দাগের ওপর
কাজ করে।
আরো পড়ুনঃ কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
ভিনেগার দিয়ে কাপড়ের বিভিন্ন রকমের দাগ তোলা সম্ভব যেমন - ঘাম ও ডিওডোরেন্টের
হলদে দাগ। সমপরিমাণ সাদা ভিনেগার ও পানি একসাথে মিশিয়ে দাগের ওপর মিশ্রণটি
স্প্রে করে ডুবিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট । এরপর এটি নরম ব্রাশ দিয়ে আলতো করে
ঘষে ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেললে দাগটি উধাও হয়ে যাবে। আবার চা ও কফি অথবা ফলের
দাগ খুব সহজেই ভিনেগার দ্বারা উঠানো সম্ভব। ওয়াশিং মেশিন বা বালটিতে কাপড়
ধোয়ার শেষে আধা কাপ সাদা ভিনেগারের সাথে পানি মিশিয়ে কাপড় গুলো ধুয়ে নিলে এটি
ন্যাচারাল ফেব্রিক সফটনার হিসেবে কাজ করবে এবং ওয়াশিং পাউডারের গন্ধ দূ...
করবে।
দুধের ব্যবহার
কাপড় থেকে কালির দাগ বিশেষ করে বলপেন কলমের কালির দাগ এবং ফলের রসের দাগ দূর
করতে দুধ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করে থাকে। হেয়ার স্প্রে বা
অন্যান্য রাসায়নিকের তুলনায় দুধ কাপড়ের সুতা বা রঙের কোনো ক্ষতি করে না । তাই
এটি অত্যন্ত নিরাপদ ভাবে ঘরোয়া সমাধানে কাপড় থেকে কলমের দাগ তোলা সম্ভব । দুধের
ল্যাটট্রিক এসিড দাগের উপাদান গুলোকে ভেঙ্গে ফেলতে সাহায্য করে যা কাপড়ের রং
নষ্ট না করে দাগ হালকা করে দেয় । সিল্ক , রেশমি বা লিলেনের মত সংবেদনশীল কাপড়ের
রাসায়নিক ব্যবহার করলে কাপড় নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে । কিন্তু দুধ
সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায় যে কোন কাপড় থেকে দাগ তুলতে সাহায্য করে।
একটি পাত্রে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঠান্ডা দুধ নিন । কাপড়ের দাগ লাগা অংশটি দুধের
মধ্যে সম্পন্ন ডুবিয়ে নিন। ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন মাঝেমধ্যে হাত
দিয়ে দাগের জায়গাটি আলতো করে ঘোষণ দেখবেন কালিবা দাগ আস্তে আস্তে দুধে ছড়িয়ে
পড়ছে এবং কাপড় পরিষ্কার হচ্ছে। অথবা তরল দুধ হালকা করে গরম করে নিতে
পারেন। একটি পাত্রে হালকা গরম তরল দুধ নিয়ে দাগ লাগা অংশটি ডুবিয়ে
সারারাত রেখে দিন । সকালে উঠে দেখবেন, দুধের রং বদলে গেছে এবং কাপড়ের দাগ উধাও
হয়ে গেছে। এরপর সাধারণ ডিটারজেন্ট বা সাবান দিয়ে কাপড়টি ভালোভাবে ধুয়ে
রোদে শুকাতে দিন।
হেয়ার স্প্রে
হেয়ার স্প্রে তে থাকা অ্যালকোহল কালির উপাদানকে সহজেই তুলতে সাহায্য করে। কাপড়ে কলমের কালির দাগ দূর করার জন্য অ্যালকোহল ভিত্তিক হেয়ার স্প্রে খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। দাগের ওপর স্প্রে করার আগে কাপড়ের যেকোনো একটি অংশে প্রথমে হেয়ার স্প্রে করে দেখে নিন যাতে কাপড়ের রং চটে যাচ্ছে কিনা। দাগ লাগা অংশটি একটি সোজা জায়গায় বিছিয়ে রাখেন দাগের ঠিক নিচে একটি শুকনা কাগজ অথবা তোয়ালিয়া রাখেন।
যাতে স্প্রে করার সময় গলে কাপড়ের পেছনের দিকে না লেগে যায় । দাগের ওপর সরাসরি পর্যাপ্ত পরিমাণের হেয়ার স্প্রে করুন । যেন অ্যালকোহলটি পুরোপুরি কাপড়ের সাথে মিশে যেতে পারে । একটি পরিষ্কার নরম কাপড় বা তুলা দিয়ে দাগের ওপর আলতো ভাবে চেপে চেপে কালির তুলে নিন, ভুল করেও ঘষাঘষি করবেন না তাহলে দাগ ছড়িয়ে যেতে পারে । দাগ উঠে যাওয়ার পর জায়গাটি ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন এবং স্বাভাবিক নিয়মে ডিটারজেন্ট দিয়ে কাপড় ধুয়ে ফেলুন।
নেলপলিশ রিমুভার
সাদা কাপড়ে কালির দাগ তোলার ক্ষেত্রে ঘরে যদি অ্যালকোহল না থাকে সে ক্ষেত্রে নেলপলিশ রিমুভার ব্যবহার করা যায় । একটি তুলা রিমুভারে ভিজিয়ে দাগের ওপর চেপে ধরলে , কালি নরম হয়ে উঠে আসে। তবে মনে রাখতে হবে কাপড়টি যদি পলিস্টার বা কৃত্রিম সুতার হয় তবে রিমুভার ব্যবহারের আগে কাপড়ের কোনায় একটু পরীক্ষা করে নিতে হবে।
আরো পড়ুনঃ ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে সেরা মোবাইল ফোন
যদি সাদা কাপড়ে কালির দাগ লেগে যায়, তাহলে কালি লাগার জায়গায় জোরে ঘষবেন
না এতে কালি ছড়িয়ে দাগ আরও বড় হয়ে যাবে । সব সময় তুলা বা টিস্যু দিয়ে
চেপে ধরে রাখলে কালি শুষে নিবে । দাগ পুরোপুরি পরিষ্কার হওয়ার আগে কাপড়ের
গরম পানি বা স্ত্রীর করবেন না । তাপ লাগলে কালির দাগ স্থায়ী হয়ে যেতে
পারে।
কাপড়ে কালির দাগ দূর করতে করণীয় কি
কাপড়ে কালির দাগ লাগলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই কিছু বৈজ্ঞানিক ও কৌশলগত নিয়ম অনুসরণ করলে কাপড় থেকে খুব সহজেই দাগ দূর করা সম্ভব । এবং এটি পুনরায় আগের মত ফিরিয়ে আনাও সম্ভব।
দাগ লাগার সাথে সাথে আমাদের প্রথম করণীয় হচ্ছে- কালি লাগার পর অনেকে
প্রথমে যে ভুল করে তা হল ,কাপড়টি জোরে জোরে ঘষতে শুরু করেন । ঘষলে কালি কাপড়ের
ভেতরে ঢুকে যায় এবং দাগ আরো জেদি হয়ে ওঠে।
দাগটি যদি একদম তাজা বা ভেজা হয় তবে এটি পরিষ্কার সাদা সুতি কাপড় দিয়ে দাগের
ওপর আলতো ভাবে চেপে ধরে রাখতে হবে । এতে বাড়তি তরল কালি পেপার বা কাপড়ে চলে
আসবে।
দাগ পরিষ্কারের কাজ শুরু করার আগে , দাগ লাগা অংশের ঠিক নিচে একটি মোটা কাগজ
অথবা তোয়ালা বা প্লাস্টিক রাখতে হবে । যাতে কাপড়ের কালির দাগটি পেছনের দিকে
ছড়িয়ে না পড়ে।
কাপড়ের ধরন অনুযায়ী বিবেচনা করে কোন দাগের জন্য কোন ঘরোয়া উপকরণটি অথবা বাজারে
উপকরণটি বেশি উপযোগী হবে সেটি বিবেচনা করতে হবে।
সাদা সুতি বা ডেনিম জিন্স এর কাপড় গুলো বেশ শক্ত হয় । তাই লেবুর রস ও লবণ ,
টুথপেস্ট ,বার ভিনেগার , ব্রেকিং সোডা , ব্যবহার করে ব্রাশ দিয়ে
আলতো ভাবে ঘষতে হবে।
সিল্ক শিপন বা রেশমি এই কাপড় গুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়। এগুলোতে অ্যালকোহল বা
ঘষাঘষি করা যাবে না। এই কাপড়ের দাগ দূর করতে তরল দুধে বা হালকা ডিশওয়াশার
ব্যবহার করা নিরাপদ।
উপসংহারঃ কাপড় থেকে কালির দাগ তোলার উপায় ও করণীয়
কাপড়ে কালির দাগ পড়া যেমন একটি বিরক্তকর ঘটনা । ঠিক তেমনি সঠিক উপায় তা দূর করা একটি শিল্প ও কৌশল। একটি সামান্য কালির দাগের কারণে সাধের প্রিয় পোশাকে বাতিল করে দেওয়া কোন বুদ্ধিমানের কাজ নয় । ব্যস্ত জীবনে অসাবধানতার কারণবশত যে কোন সময় পোশাকে কালির দাগ লাগতে পারে এটাই স্বাভাবিক । তবে বিজ্ঞানসম্মত উপায় ও ধৈর্য সহকারে সঠিক পদক্ষেপ নিলে এই দাগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব ।
ঘরোয়া পদ্ধতিতে বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করলে আমরা এই দাগ থেকে পরিত্রান পেতে পারি
। ওপরের আলোচনা থেকে কোন উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা কাপড়ে লেগে থাকা দাগ
সহজে তুলতে পারব সে সম্পর্কে জানতে পেরেছি। দাগ লাগার সাথে সাথে কাপড়ে কড়া
রাসায়নিক ব্যবহার না করে বা জোরে ঘষাঘষি থেকে বিরত থাকলে আমরা কাপড়টিকে আবার
পুনরায় দাগ মুক্ত করতে পারব । কালির ধরন যেমনই হোক না কেন সঠিক দ্রব্যটি
নির্বাচন করে দাগ উঠানো আসল কৌশল। প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া উপকরণের সঠিক
ব্যবহার কেবল আমাদের টাকা বাঁচায় না বরং একই সাথে আমাদের সময় কেউ বাঁচায় এর
পাশাপাশি কাপড়ের গুণগত মন রক্ষা পায়।

আপনি সাগিরা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url