পার্সিয়ান বিড়াল চেনার উপায় ও রাজশাহীর কোথায় পার্সিয়ান বিড়াল পাওয়া যাই

 

বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিড়ালপ্রেমীদের সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে । বিশ্বের আদি থেকেই মানুষের কাছে পশু পালন একটি সখ হিসেবে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে বিড়াল ,কুকুর ,খরগোশ, ইত্যাদি বিভিন্ন রকমের প্রাণী মানুষ তার সৌখিনতার জন্য পালন করে থাকে। এবং পাশাপাশি সে ব্যবসা হিসাবেও এই পশুপাখি গুলো তারা পালন করে থাকে। 

পার্সিয়ান-বিড়াল-চেনার-উপায়


আজ আমরা জানবো পার্শিয়ান বিড়াল নিয়ে। পার্সিয়াল বিড়ালের উৎপত্তি ,পার্শিয়াল বিড়ালের বৈশিষ্ট্য এবং পার্শিয়াল বিড়াল কেমন পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে, এবং  রাজশাহীতে পার্শিয়ান বিড়াল কোথায় পাওয়া যায় এইসব সম্পর্কে কনটেন্টের মাধ্যমে আমরা  বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করব।

পোস্ট সূচীপত্রঃ পার্শিয়ান বিড়াল চেনার উপায় ও রাজশাহীতে কোথায় পার্শিয়ান বিড়াল পাওয়া যায়

পার্শিয়ান বিড়াল চেনার উপায় রাজশাহীতে কোথায় পার্শিয়ান বিড়াল পাওয়া যায়

বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশে পার্সেন্ট বিড়াল জনপ্রিয় প্রাচীন ও রাজকীয় পোষা প্রাণী হিসেবে তালিকার প্রথমে রয়েছে ঘন রেশমি লোম বড় গোলাকার চোখ এবং চ্যাপ্টা মুখের জন্য এই বিড়ালটি সবার কাছে আকর্ষণীয় প্রাণী হিসেবে নিজেদের স্থান দখল করে নিয়েছে বিড়াল প্রেমীদের কাছে পার্শিয়ান বিড়াল একটি শখের প্রাণীর নাম । সৃষ্টির আদি থেকে মানুষ তার সৌখিনতার জন্য পরিচিত। 

বাংলাদেশ সহ দেশের বাইরে পার্শিয়ান বিড়াল বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সোর্সের মাধ্যমে খুব সহজে পাওয়া যায় রাজকীয় চেহারা এবং শান্ত স্বভাবের কারণে বিশ্ব জুড়ে এই বিড়ালের একটি বিশাল বাণিজ্য বাজার গড়ে উঠেছে মানুষ তার শখে পোষা প্রাণীর জন্য বিভিন্ন মূল্যে তা ক্রয় করতে আগ্রহ প্রকাশ করে পার্শিয়ান বিড়াল কেনার জন্য মানুষ বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সোর্সের মাধ্যমে বা স্থানীয় ক্যাটশপ গুলাতে গিয়ে সরাসরি দেখে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে পার্সিয়ান বিড়াল ক্রয় করতে পারে।

পার্সিয়ান বিড়ালের ইতিহাস ও উৎপত্তিস্থান

পারসিয়ান বিড়ালের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এটি পারস্য সম্রাজ্য যা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য ইরান রাষ্ট্র নামে পরিচিত সেখানেই তার উৎপত্তিস্থল ছিল । ১৬২০ সালের দিকে ইতালির পর্যটক পারস্য থেকে প্রথম এই বিড়াল ইউরোপে নিয়ে আসেন ।উনিশ দশকের দিকে ইংল্যান্ডের রানী ভিক্টোরিয়ার এই জাতের বিড়াল পছন্দ করার পর থেকে এটি রাজকীয় মর্যাদার প্রতীক হয়ে ওঠে এবং বিশ্বব্যাপী এর চাহিদা দেখা যায়।

১৮৭১ সালে লন্ডনে বিখ্যাত 'ক্রিস্টাল প্যালেস ' পৃথিবীতে প্রথম অফিশিয়াল ক্যাট শো অনুষ্ঠিত হয় সেখানে পার্শিয়ান বিড়াল প্রদর্শন করা হয় । ১৯ দশকের শেষের দিকে পার্শিয়ান বিড়াল ইউরোপ থেকে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায় । ১৯০৬ সালে আমেরিকার 'ক্যাট       ফ্যানসিয়াস অ্যাসোসিয়েশন' গঠিত হলে তারা পার্শিয়াল বিড়ালকে অন্যতম প্রথম স্বীকৃত জাত হিসেবে তালিকাভুক্ত করে

বর্তমান প্রেক্ষাপটে ও বিশ্বায়নের দিকে লক্ষ্য করলে পার্শিয়ান বিড়াল শুধু ইরান ইউরোপ বা আমেরিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এটি বিশ্বের এক নম্বর জনপ্রিয় ইনডোর ক্যাট হিসেবে পরিচিত । বর্তমানে এদের প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। ৪০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষের যত্ন ভালোবাসা এবং রাজকীয়  লালন পালনের মাধ্যমে পার্সিয়ান বিড়াল নিজেদেরকে একটি আরামদায়ক পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে শিখেছে।

পার্সিয়ান বিড়াল চেনার বৈশিষ্ট্য সমূহ

বিশ্বায়নের দিকে লক্ষ্য করলে পার্শিয়ান বিড়াল শুধু আমেরিকা, ইউরোপ অথবা ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এটি বাংলাদেশ সহ অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশেও একটি আকর্ষণীয় পোষা প্রাণী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে । বাংলাদেশের মধ্যেও বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং অন্যান্য বিভাগীয় শহরে পারসিয়ান বিড়ালের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পার্সিয়ান বিড়ালের চেহারা বৈশিষ্ট্যের ওপর লক্ষ্য করলে এদের দুই শ্রেণীতে ভাগ করা যায়। ডল ফেস ও পাঞ্চ ফেস

ডলফেস- যাদের মুখ মন্ডল এর গঠন আদি পার্শিয়ানদের মতো অর্থাৎ নাক স্বাভাবিক এবং চোখ ও মুখের গঠন পৈত্রবাহ বাকি এইরকম পারসিয়ান বিড়ালদের ডলফেস বলা হয়ে থাকে এরা মূলত রাজকীয় ভাবে নিজেদের জীবনযাপন করে থাকে।

পাঞ্চ ফেস-যাদের নাক ও মুখ অত্যন্ত চ্যাপ্টা কপাল ও থুতনি একদম সোজা লাইনে থাকে এইরকম পার্শিয়ান বিড়ালদের পাঞ্চপেস ওয়ালা পার্শিয়ান বিড়াল বলা হয়ে থাকে। এরা মূলত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে থাকে ও এরা ট্রেনিং প্রাপ্ত হয়ে থাকে।

পারসিয়ান বিড়ালের স্বভাব ও আচরণগত দিক

পার্শিয়ান বিড়ালের স্বভাব অন্যান্য বিড়ালদের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে থাকে ।এদের শান্ত , ভদ্র এবং  সামাজিক আচরণের কারণে এরা বিশ্ব জুড়ে গৃহপালিত পশু হিসেবে এক নাম্বার স্থান দখল করে রয়েছে। দেশীয় বিড়াল যেমন- যেখানে ঘরের সিলিং ,পর্দা বা উঁচু আলমারিতে লাফিয়ে বেড়াতে পছন্দ করে। তুলনামূলকভাবে পার্শিয়ান বিড়াল সেখানে মেঝেতে নরম সোফাই বা বিছানায় অলস ভাবে শুয়ে থাকতে বেশি ভালোবাসে । এরা কোন ধরনের তাড়াহুড়া বা অস্থিরতা পছন্দ করেনা।

এরা সচরাচর খুব বেশি ডাকাডাকি বা মিউ মিউ শব্দ করে না । যদি তাদের খাবারের প্রয়োজন হয় বা অন্য কোন দরকার পড়ে তবে তারা খুব  মিষ্টি এবং নিচু সুরে শব্দ করে। অনেক সময় তারা কোন শব্দ না করে কেবল তাদের মায়াবী চোখ দিয়ে মালিকের দিকে তাকিয়ে নিজের চাহিদা প্রকাশ করে। পার্শিয়ান বিড়াল মানুষের সঙ্গে  খেলতে পছন্দ করে । তবে এরা সবার সাথে সহজে মেশেনা পরিবারের যে সদস্য তাদের সবচেয়ে বেশি যত্ন নেয় এবং খাবার দেয় তাকে তারা খুব ভালোবাসে। 
অলস সময় কাটাতে এবং মাথায় ও গলায় হাত বুলিয়ে আদর নিতে ভীষণ পছন্দ করে। পার্সেন্ট বিড়াল খুব সংবেদনশীল হয় ঘরের ভেতরে উচ্চশব্দ চেচামেচি বা হুটহাট পরিবেশ পরিবর্তন খুব একটা পছন্দ করে । যদি ঘরে ছোট শিশু থাকে তবে এরা তাদের সাথে শান্তভাবে মানিয়ে নেয় কোন শিশু তাদের অতিরিক্ত বিরক্ত করলে এরা সাধারণত আক্রমণ বা আচরণ না দিয়ে চুপচাপ সেখান থেকে সরে যায় ।

পার্শিয়ান বিড়াল লালন-পালন পদ্ধতি

শান্ত স্বভাব এবং আকর্ষণীয় লম্বা লোমের কারণে এই বিড়াল বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।পার্সিয়ান বিড়াল লালন-পালন করার জন্য সঠিক খাবার গ্রুমিং বা লোমের যত্ন এবং নিয়মিত স্বার্থ পরীক্ষার করার প্রয়োজন রয়েছে । পার্সেন্ট বিড়ালের মুখমন্ডল কিছুটা চ্যাপ্টা হওয়ায় এরা সব ধরনের পাথর থেকে সহজে খাবার খেতে পারে না তাই এদের জন্য বিশেষ পাত্রের প্রয়োজন রয়েছে অবশ্যই তাদের খাদ্য ও পুষ্টি থেকে নজর দিতে হবে এদের প্রধান খাবার হিসেবে উন্নত মানের রেডিমেড ক্যাট ফুড দেয়া যেতে পারে অথবা এদের খাবারের প্রোটিনের পরিমাণ বেশি রাখতে হবে।
পার্সিয়ান-বিড়াল-চেনার-উপায়

এদের মুখমণ্ডল কিছুটা চ্যাপ্টা হওয়ায় এদের জন্য অগভীর এবং চওড়া বাটি ব্যবহার করতে হবে যাতে খাবার খাওয়ার সময় এদের গোপ বা মুখে বারবার আঘাত না লাগে সব সময় পরিষ্কার ও তাজা পানি-পানের জন্য রেখে দিতে হবে । পার্শিয়ান বিড়ালের সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো এদের ঘন এবং লম্বা লোম। তাই এর সঠিক যত্ন না নিলে লোমে জট পাকিয়ে চামড়ায় ইনফেকশন হতে পারে । তাই দিনে অন্তত এক থেকে দুইবার চিরুনি দিয়ে এদের লোম আছড়ে দিতে হবে এতে মরা লোম ঝরে  যাবে এবং জট বাঁধবে না।

বিড়াল ঘরে আনার প্রথম দিন থেকে তাকে লিটার বক্সের সাথে পরিচিত করাতে হবে এবং মন মত ত্যাগ করানোর জন্য তাকে প্রশিক্ষণ করাতে হবে প্রতিদিন দুইবার লিটার বক্স পরিষ্কার করতে হবে এবং সপ্তাহে একবার পুরো লিটার পরিবর্তন করে বক্সটি দিয়ে নিতে হবে পার্সেল বিড়াল নোংরা লিটার বক্স একদমই পছন্দ করে না বিড়ালের বয়স দুই মাস হলেই পশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে ট্রিপল বা কোয়াড্রপোল  ভ্যাকসিন দিতে হবে এরপর নিয়মিত বুস্টার ডোজ ও জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দিতে হবে প্রতি তিন মাস পর পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হবে এদের বংশগত কিছু রোগ যেমন পলিস্টিক কিডনি ডিজিস এবং শ্বাসকষ্টে সমস্যা হতে পারে তাই ঘরের তাপমাত্রা সবসময় সহনশীলও আরাম দেয় রাখতে হবে

পার্সিয়ান বিড়াল সঠিক যত্ন ও পরিচর্যা

পার্সিয়ার বিড়ালের সঠিক যত্ন ও পরিচর্যা জন্য নিয়মিত গ্রুমিং, সঠিক পুষ্টি এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রতি বিশেষ নজর দেয়ার  প্রয়োজন রয়েছে ।এই বিড়াল গুলো স্বভাবগতভাবে অত্যন্ত শান্ত হওয়ায় এরা সবার মনোযোগ আকর্ষণ করে থাকে নিজেদের দিকে। পার্শিয়ান বিড়ালের প্রধান আকর্ষণ হল এদের লোম তাই এই লোমে সঠিক যত্ন না নিলে জট পাকিয়ে ত্বক ইনফেকশন হতে পারে।   চার থেকে ছয় সপ্তাহে একবার কুসুম গরম পানি এবং বিড়ালের উপযোগী মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করাতে হবে। 

গোসল শেষে  লোম সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিতে হবে । এদের চোখ দিয়ে প্রায়ই পানি পড়ে যা শুকিয়ে দাগ হয়ে যায় প্রতিদিন নরম সুতি কাপড়  হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে  চোখে ও মুখ মুছে দিতে হবে। সপ্তাহে একবার কানের ভেতরটা পরিষ্কার করতে হবে । ময়লা জমা থাকলে ভেজা কটন দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে , তবে কানের গভীরে কাঠি ঢোকাবেন না। প্রতি দুই থেকে তিন সপ্তাহ পরপর বিড়ালের নখ কাটার বিশেষ টিমার দিয়ে নখের সাদা অংশটুকু সাবধানে কেটে নিতে হবে।

পার্সিয়ান বিড়ালের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা

পার্সিয়ান বিড়ালের স্বাস্থ সেবা ও চিকিৎসা সাধারণ বিড়ালের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন এবং সংবেদনশীল। বিড়ালকে মারাত্মক সব সংক্রমণথেকে দূরে রাখতে সবসময় ভ্যাকসিন দেওয়া জরুরী। এর মধ্যে কিছু ভ্যাকসিন আছে যেগুলো বিড়ালকে দেয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যেমন হচ্ছে কোর ভ্যাকসিন এটি বিড়ালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভ্যাকসিন। এটি বিড়ালকে ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ মধ্যে  প্রথম ডোজ এবং এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে বুস্টার ডোজ দিতে হবে এটি বিড়ালের ফ্লু প্রতিরোধ করে।

রেবিস ভ্যাকসিন জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধের জন্য বিড়ালের বয়স তিন থেকে চার মাস হলে এই ভ্যাকসিন দেওয়া অত্যন্ত জরুরী এবং প্রতিবছর এই বুকটার ডোজ নিতে হয়। বিড়াল হঠাৎ করে খাওয়া কমিয়ে দিলে ,বমি করলে বা মলে রক্ত/কৃমি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে শরণাপন্ন হতে হবে  এবং চিকিৎসক যদি কৃমিনাশক ওষুধ দিয়ে থাকে তাহলে সেটি খাওয়াতে হবে । প্রতি তিন মাস পর পর নিয়মিত কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হবে  ।
চ্যাপ্টা মুখের কারণে এদের নাকে ছিদ্র ছোট হয় । ফলে গরমের দিনে ধুলা-বালু এদের  নাকের মধ্যে ঢুকে পরে পরবর্তীতে এদের শ্বাস নিতে কষ্ট হয় তাই সব সময় ঘর পরিষ্কার ও ধুলাবালি মুক্ত রাখতে হবে। গরমের দিনে এদের এসি বা ফ্যানের নিচে ঠান্ডা পরিবেশে রাখতে হবে, তাহলে এদের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দূর হবে । এদের চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়ে এবং চোখের নিচে কালো বা লালচে দাগ হয়ে যায় যত্ন না নিলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া ইনফেকশন হতে পারে, তাই প্রতিদিন কটন অথবা ভেজা কাপড় দিয়ে চোখ পরিষ্কার করতে হবে। যদি চোখে নিচে লালচে দাগ অথবা ব্যাকটেরিয়া ইনফেকশন দেখা দেয় তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

পারসিয়ান বিড়ালের খাবারের ধরন 

যেহেতু পার্শিয়ান বিড়াল অন্যান্য বিড়ালদের মতো নয় যার কারণে তার খাবারের মধ্যেও কিছু পার্থক্য দেখা দেয়। পার্শিয়ান  বিড়ালের মুখ চ্যাপ্টা হয়, এরা গভীর বাটি থেকে খাবার বা পানি সহজে  খেতে পারে না তাই  এদের জন্য সব সময় চওড়া এবং অগভীর বাটি ব্যবহার করা উচিত ।এতে খাবার খাওয়ার সময় তাদের গোপ বা মুখে চাপ লাগে না এবং তারা স্বাচ্ছন্দে খাবার খেতে পারে। এরা ওয়েট ফুট বা কেন ফুট বেশি পছন্দ করে অর্থাৎ মাংসের টুকরা এবং ঝোল যুক্ত কেন ফুড এরা খেতে খুবই পছন্দ করে এটি জীবাণু খুব সহজ সে তো করা মাংস কোন মসলা বা লবণ ছাড়া সেদ্ধ করা মুরগির মাংস পার্শিয়ান বিড়ালের কাছে অতি পছন্দ।

তেল ও কাঁটা ছাড়া সেদ্ধ সামুদ্রিক মাছ বারুই মাছ এরা অনেক পছন্দ করে তবে প্রতিদিন মাছ দেওয়া উচিত নয়। বিড়ালের কাছে পেঁয়াজ ও রসুন অত্যন্ত অপচ্ছদ অপছন্দনীয় খাবার কারণ কাঁচা পাকা বা গুড়ো করা যেকোনো পেঁয়াজ রসুন বিড়ালের রক্তকণিকা ধ্বংস করে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয় । আবার প্রাপ্তবয়স্ক বিড়াল রাত গরুর দুধ হজম করতে পারে না এটি খেলে তাদের ডায়রিয়া ও পেটের সমস্যা দেখা দেয় তাই দূর থেকে এদেরকে দূরে রাখাটাই ভালো ।

রাজশাহীর যেসব জায়গায় পার্শিয়ান বিড়াল পাওয়া যায়

রাজশাহী শহর বিভাগীয় শহর হওয়ায় এখন বেশ কিছু নির্ভরযোগ্য জায়গা গড়ে উঠেছে যেখান থেকে পার্শিয়ান বিড়াল সংগ্রহ করা যায় রাজশাহীতে বেশ কিছু সুপরিচিত পেট সব বা বাট কর্নার রয়েছে যেগুলোতে সরাসরি গিয়ে পার্শিয়ান বিড়ালের বাচ্চা নেয়া যায় অথবা আপনি চাইলে অনলাইনে বসেও এই পার্শিয়ান বিড়ালের বাচ্চা গুলোকে অর্ডার দিতে পারেন । এটি মূলত একটি উন্নত মানের পেট শপ ও ক্লিনিক  এখানে বিড়ালের বিভিন্ন আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র পাওয়া যায়। 

বর্তমানে রাজশাহীতে বিড়াল কেনা বেচা বা দত্তক না সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হলো ফেসবুক গ্রুপগুলো। এখানে স্থানীয়রা সরাসরি বিড়ালের ছবি অথবা ভিডিও দেখে নিজেদের জন্য বিড়াল নির্বাচন করতে পারে।   এখানে নিয়মিত দুই থেকে তিন মাস বয়সী পটি ট্রেন্ড পার্শিয়ান বিড়ালের কেনাবেচা পোস্ট দেখা যায়। এইসব বিড়াল গুলো কেনা বেচার ক্ষেত্রে দামের ভিন্নতা দেখা দেয় যেমন ডলফেস বা ফ্ল্যাট ফেস এবং কোর্টের ঘনত্বের ওপর দাম নির্ভর করে । নরমাল বা ডলফেস  কিটেন ৮ হাজার থেকে ২০ হাজার এর ওপর  বিক্রি হয় । ফ্ল্যাট ফেস পারসিয়ান ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকার বিক্রি হয় । আর এডাল পারসিয়ান ৮ হাজার টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

অনলাইন ও লোকাল কমিউনিটি

অনলাইন ও লোকাল কমিউনিটিতে পার্শিয়ান বিড়াল কেনাবেচা বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ফেসবুক গ্রুপ পেজ এবং বিভিন্ন ক্লাসিফাইড ওয়েবসাইটডের মাধ্যমে পার্সন বিড়াল কেনাবেচা করা যায়। ঘরে বসেই বিভিন্ন রঙের, বয়সের এবং ফেস টাইপ অনুযায়ী বিড়াল পছন্দ করা যাই। মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপ মাধ্যমে বিক্রেতার সাথে সরাসরি দামদর করা এবং বিড়ালের ভিডিও দেখে ক্রয় করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে  অনলাইন কেনাকাটার মাধ্যমে অনেক সময় ভুয়া ছবি দেখে অগ্রিম টাকা নিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে তাই অনলাইন কেনাকাটা করার সময় একটু সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন রয়েছে।

লোকাল কমিউনিটিতে পার্শিয়ান বিড়াল কেনাকাটা বলতে নিজ এলাকায় পরিচিত ব্রিডার ,পরিচিত বিড়াল পালক অথবা স্থানীয় পেট সব থেকে সরাসরি কেনাবেচা কে বোঝানো হয়। লোকাল কমিউনিটিতে বিড়াল কেনার ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা রয়েছে বিড়ালটি সুস্থ চঞ্চল এবং সক্রিয় কিনা তা নিজে দেখে ব্যাবহার করা যায়। সরাসরি ক্রয় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এখানে প্রতারিত হওয়ার কোন সুযোগ থাকে না। অনেক সময় লোকাল সবগুলোতে অতিমাত্রায় দাম চেয়ে থাকে সেদিকে একটু খেয়াল রাখা জ্রুরি।

পার্সিয়ান বিড়াল কেনার  ক্ষেত্রে সতর্কতা

কোন অনলাইন পেজ বা বিক্রেতাকে অগ্রিম টাকা না দিয়ে নিজে গিয়ে বিড়াল দেখে অ্যাক্টিভনেস পরীক্ষা করে তারপর টাকা পরিশোধ করুন।  কারণ অনলাইনের পেজ দেখে অগ্রিম টাকা দিলে প্রতারণার শিকার হতে পারেন । পার্শিয়ান  বিড়ালের বাচ্চা কেনার আগে সেটি লিটার বক্সে বা বালিতে নিজে নিজে মলমূত্র ত্যাগ করতে পারে কিনা তা বিক্রেতার কাছ থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন , না হলে পরবর্তীতে আপনি বিপদে পড়তে পারেন । 
 বিড়ালের চোখ দিয়ে অতিরিক্ত পানি পড়ছে কিনা গায়ে কোন ফাঙ্গাস ইনফেকশন বা চুলকানি আছে কিনা বা প্রথম  ভ্যাকসিনের ডোজ দেওয়া আছে কিনা সেটি যাচাই করে নিন না হলে । না হলে অনেক ক্ষেত্রে পাঙ্গাস ইনফেকশন বা চুলকানি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যেও দেখা দিতে পারে কারণ পার্সিয়ান বিড়াল পরিবারের সদস্যদের সাথে মিলে থাকতে বেশি পছন্দ করেন।

উপসংহারঃ পার্শিয়ান বিড়াল চেনার উপায় ও রাজশাহীর কোথায় পাসেন বিড়াল পাওয়া যায়

পার্শিয়ান বিড়াল অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ও সুন্দর চেহারায় হওয়ার কারণে একটির মধ্যে একটি রাজকীয় ভাব লক্ষ্য করা যায়। এ রাজকীয় ভাবের কারনে এদের অতি যত্নে লালন-পালন করতে হয়। এবং এদের দিকে প্রচুর পরিমাণে মনোযোগ দিতে হয। যদি আপনার মনে হয় এদের চোখ দিয়ে পানি পড়ছে অথবা এদের গায়ে কোন জায়গায় ফাঙ্গাস ইনফেকশন বা চুলকানি দেখা দিয়েছে সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের শরণাপন্ন অবশ্যই হতে হবে। সপ্তাহে এদের গরম পানি দিয়ে এবং সাথে মাইল শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করাতে হবে। তাদের পায়ের নখ গুলো কেটে দিতে হবে।  তাদের খাবারের দিকেও বেশ যত্নশীল হতে হবে । মূল কথায় আপনার পরিবারে একটি শিশু সন্তানকে আপনি যেমন ভাবে আদর যত্নে লালন-পালন করেন ঠিক তেমন ভাবে আপনাকে বিড়ালটির যত্ন নিতে হবে। 
পার্সিয়ান বিড়াল কেনা বেচার ক্ষেত্রে রাজশাহী সহ বাংলাদেশের সব জায়গায় অনলাইনে অথবা লোকাল মার্কেট গুলোতে যোগাযোগ করলে খুব সহজে পার্শিয়ালবিড়াল পাওয়া সম্ভব। বিশ্বব্যাপী চাহিদা হওয়ার কারণে মানুষ পারসিয়ান বিড়ালকে ব্যবসা হিসেবে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছে । অতএব পার্শিয়ান বিড়াল ক্রয় বিক্রয় করা এখন স্বপ্নের কোন কিছুই নয় সাধ্যের মধ্যে এটি ক্রয় করা সম্ভব।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপনি সাগিরা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url